নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | 120 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) শেয়ার নেটিং চালুর প্রস্তাব দিলেও বিষয়টি বাস্তবায়নে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের মতে, এই পদ্ধতি কার্যকর করতে হলে আগে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কঠোর তদারকি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিএসইসি সূত্র জানায়, অতীতে কয়েকটি ব্রোকার হাউজের আর্থিক অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই নেটিং সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে সংস্থাটি সাবধানী অবস্থান নিয়েছে।
কী এই শেয়ার নেটিং
শেয়ার নেটিং বা স্ক্রিপ নেটিং হলো একটি ইনট্রা-ডে ট্রেডিং ব্যবস্থা, যেখানে একজন বিনিয়োগকারী একই কার্যদিবসে একই শেয়ার একাধিকবার কেনা ও বিক্রি করতে পারেন। দিনশেষে মোট লেনদেনের ভিত্তিতে শেয়ারের অবস্থান সমন্বয়ের সুযোগ থাকে। এতে বাজারে লেনদেন ও তারল্য বাড়লেও এর সঙ্গে শর্ট সেলিংয়ের মতো উচ্চ ঝুঁকির বিষয় জড়িত থাকে।
সরাসরি নাকচ নয়, সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
বিএসইসির একজন কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কমিশন নীতিগতভাবে শেয়ার নেটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছে না। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এটি চালু করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
তিনি আরও জানান, ডিএসইর প্রস্তাব সরাসরি বাতিল করা হয়নি। বরং নেটিং চালুর আগে নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা জোরদার করতে ডিএসইকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ব্রোকারেজ ঝুঁকি এখনো বড় উদ্বেগ
বর্তমানে অনেক ব্রোকারেজ হাউজ মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়ে নেগেটিভ ইক্যুইটির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি একাধিক গ্রাহক এখনো ব্রোকারদের ক্যাশ তছরুপের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাননি। এই বাস্তবতায় বিএসইসির ধারণা, ব্রোকাররা যতদিন পর্যন্ত শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে না পারছে, ততদিন নেটিং বা শর্ট সেলিংয়ের মতো জটিল লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
নেটিং চালুর জন্য তিন শর্ত দিল বিএসইসি
শেয়ার নেটিং কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএসইসি তিনটি মৌলিক শর্তের কথা উল্লেখ করেছে—
১. আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা:
বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের বড় ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু করা।
২. শর্ট সেলিংয়ের সুস্পষ্ট নীতিমালা:
শেয়ারের দর কমলেও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে বিনিয়োগের সুযোগ রাখতে নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নিয়ম প্রণয়ন।
৩. শক্তিশালী মার্কেট মেকার ব্যবস্থা:
বাজারে সার্বক্ষণিক ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্রিয় ও সক্ষম মার্কেট মেকার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
অতীত অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা
উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক আগে শেয়ারবাজারে অটোমেশন চালুর সময় ডিএসইতে নেটিং সুবিধা বিদ্যমান ছিল। তবে সে সময় লেনদেনের পরিমাণ ছিল সীমিত। বর্তমানের বড় ও জটিল বাজারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া এই পদ্ধতি চালু করলে বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Posted ৮:২৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
sharebazar24 | sbazaradmin
.
.